জাতীয় স্বাস্থ্য সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ভেষজ, ইউনানী, আয়ুর্বেদিক এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় গুরুত্বারোপ করায় আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জানাই

#জাতীয় স্বাস্থ্য সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ভেষজ, ইউনানী, আয়ুর্বেদিক এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় গুরুত্বারোপ করায় আমরা আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

আপামর মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। গত ৭ এপ্রিল জাতীয় স্বাস্থ্যদিবস-২০১৯ এর আলোচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশে ভেষজ, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা ও এর গবেষণার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

হামদর্দ দীর্ঘদিন ধরে এদেশে ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নয়ন ও গবেষণায় নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজের অংশ হিসাবে ড. হাকীম মো: ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি-এর অনুমোদন ক্রমে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এ ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক মেডিসিন অনুষদ-এর কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে বিইউএমএস ও বিএএমএস প্রোগ্রামে শিক্ষা ও গবেষণার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলাদেশে এটিই সর্বপ্রথম সফল পদক্ষেপ। হামদর্দ বাংলাদেশই প্রথম চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রওশন জাহান ইষ্টার্ণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, লক্ষ্মীপুর ও রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হামদর্দ ইউনানি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, বগুড়ায় ব্যাচেলর অব ইউনানি মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি (বিইউএমএস) প্রোগ্রাম চালু করেছে। এ দু’টি প্রতিষ্ঠানে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ডিজি হেলথ্-এর নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধা তালিকার শিক্ষার্থীরা BUMS -এ ২য় ব্যাচে ভর্তি হয়েছে।

ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নের লক্ষ্যে এ উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে ভারত সরকার ২০১৪ সালে AYUSH (Ayurvedic/Yoga/Unani/Siddha/Homeopath) নামে একটি ভিন্ন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। ১৯৭০ সালে ইউনানী, আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথ ও সিদ্ধা মেডিসিনের জন্য সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর ইন্ডিয়ান মেডিসিন গঠন করেছে। উক্ত কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে ভারতে প্রায় ৫০ (পঞ্চাশ) টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ-এ বিইউএমএস, বিএএমএস ও এমডি প্রোগ্রাম পরিচালিত হচ্ছে। নেপালে ১৯৮৮ সালে আয়ুর্বেদিক মেডিসিন কাউন্সিল গঠিত হয়েছে। শ্রীলঙ্কা ১৯৮০ সালে Mininistry of Indigenous Medicine প্রতিষ্ঠা করেছে। ভুটানে ১৯৬১ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে Institute of Traditional Medicine Service গঠিত হয়েছে। মায়ানমার ১৯৫৩ সালে Traditional Medicine Council Law প্রতিষ্ঠা করেছে।

বাংলাদেশে ডিজি হেলথ্-এর উদ্যোগে Alternative Medicine Care Division (AMC) in Bangladesh নামে একটি “NATIONAL STRATEGY AND ACTION PLAN” -এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে। উক্ত খসড়া পরিকল্পনায় বাংলাদেশে একটি ইউনানি, আয়ুর্বেদিক এবং হোমিওপ্যাথিক কাউন্সিল গঠনের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণে আমাদেরও এ বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করছি:

১. বর্তমান ‘বাংলাদেশ ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথ প্রাকটিশনার্স অধ্যাদেশটি দ্রুত সংশোধন পূর্বক আইনে পরিণত করার বিষয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।

২. ইউনানি, আয়ুর্বেদিক এবং হোমিওপ্যাথিক-এর জন্য একটি স্বতন্ত্র কাউন্সিল গঠন করাসহ ডিজিএইচএস ও বোর্ডের পরিবর্তে এ কাউন্সিলের অধীনে স্নাতকসহ সকল ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের নিবন্ধন-এর উদ্যোগ গ্রহণ করা ।

৩. দেশের সকল ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্যসহ পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ তৈরি করা ।

৪. স্বাস্থ্য সেবার সকল স্তরে মেডিকেল কলেজ, জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কমিউনিটি ক্লিনিকসহ সকল সরকারি হাসপাতালে ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের পদায়নসহ স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের সুযোগ তৈরি করা।

৫. বেসরকারি পর্যায়ে স্নাতক মানের ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক কলেজ স্থাপনের নীতিমালায় ৩০ শয্যার হাসপাতাল থাকার বিধান রয়েছে। এ ধরণের হাসপাতাল স্থাপন ও নিবন্ধন-এর নীতিমালা প্রণয়ন ও হাসপাতালের নিবন্ধন প্রদান।

৬. গবেষণার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্নাতক মানের ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে গবেষণাগার স্থাপন ও প্রয়োজনীয় সরকারি তহবিল প্রদান।

৭. দেশের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের উচ্চতর ডিগ্রি (এমডি, এমএস ইত্যাদি) অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা।

৮. বিদেশে ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক শিক্ষক ও চিকিৎসকদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ ও প্রশিক্ষণের জন্য যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করা।

৯. ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক ওষুধের মান উন্নয়নসহ চিকিৎসার নামে সকল অপচিকিৎসা বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ এবং চিকিৎসকদের আচরণবিধি মেনে চলার ব্যবস্থা গ্রহণ।

১০. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা পূরনে এই বিজ্ঞানের উন্নয়ন ও বিকাশের জন্য সরকার কর্তৃক বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমাদের সকলেই একত্রিত হয়ে প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শক্রমে উদ্যোগ গ্রহণ করার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

ডাঃ মোঃ খায়রুল আলম
সহযোগী অধ্যাপক
ফ্যাকাল্টি অব ইউনানী এন্ড আয়ুর্বেদিক মেডিসিন
হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ

Leave a comment